ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত দুদিনব্যাপী ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী দিনে আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সাথে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে চলতি বছর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একমত পোষণ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়। শেখ হাসিনা সার্ক অঞ্চলের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক যোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বিশেষ করে ২শ' মেগাওয়াট বিদু্যৎ রফতানি এবং বাংলাদেশকে একশ' কোটি ডলারের সহজ শর্তের ঋণ প্রদানের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে আজ সকালে সার্ক ভিলেজের ইন্ডিয়া হাউজে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতকালে ড. মনমোহন সিং এ কথা বলেন। অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠককালে দুই নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য সমপ্রসারণসহ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দু'টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে শেখ হাসিনাকে তাঁর দেশের সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আরো অবহিত করেন যে, তার সরকার তিস্তার পানি বন্টন সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সমপ্রতি ভারত সরকারের কাছে এই চুক্তির খসড়া হস্তান্তর করা হয়েছে। ড. সিং কমিটি অব এলিমিনেশন অব ডিসক্রিমিনেশন এগেইনস্ট উইমেন (সিড)-তে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি তার দেশের সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিশ্বে নতুন সপ্তাশ্চার্য হিসেবে তালিকায় সুন্দরবনের অন্তভর্ুক্তির জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সমর্থনের জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ অর্জনে উভয় দেশ যৌথ উদ্যোগ নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধুপ্রতীম দু'দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ এবং আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। বৈঠককালে শেখ হাসিনা সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করার আমন্ত্রণ জানালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করেন।
Sunday, July 11, 2010
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালিক-শ্রমিক ঐক্য এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, বর্তমান সরকার উৎপাদনে গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণ সাধনে বদ্ধপরিকর। শেখ হাসিনা মহান মে দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রম আইন যুগোপযোগীকরণ, শিশুশ্রম নিরসন নীতি, জাতীয় শ্রমনীতি, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন, শ্রমিকদের চাকরির বয়স ৬০ বছরে উন্নীতকরণসহ তাদের কল্যাণের লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, মেহনতি মানুষের দাবি আদায়ের স্মৃতি বিজড়িত আন্তর্জাতিক সংহতির এক অনন্য দিন মহান মে দিবস। তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে মে দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৮৮৬ সালে আত্মত্যাগকারী শ্রমিকদের স্মরণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ২০১০ পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই শ্রমজীবী মানুষ নানাভাবে শোষিত হয়ে আসছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, 'বিশ্ব আজ দু'ভাগে বিভক্ত, একদিকে শোষক, আরেকদিকে শোষিত' আমি শোষিতের পক্ষে'। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, শ্রমজীবীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করে সুখী ও সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আমরা দ্রুত এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য প্রয়োজন মালিক-শ্রমিক ঐক্য এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা। এবারের মে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য 'শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়, ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈর কর, অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্পে শান্তি ও কর্মের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, মালিকদের যেমন শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল তেমনি শিল্প রক্ষায় শ্রমিকদের দায়িত্ববান হতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী আজ ওসমানি মিলনায়তনে মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন৷ বর্তমান সরকারকে শ্রমবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে শ্রমিকদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৫৭ থেকে ৬০-এ উন্নীত করা, স্থায়ী মজুরি কমিশন ও নূন্যতম মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যে আচরণবিধি প্রণয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তিনি উল্লেখ করেন৷ প্রধানমন্ত্রী পোশাক শিল্পে হঠাত্ করে সৃষ্ট বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন৷ সংগৃহীত তথ্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন এসব ঘটনার সাথে তৃতীয় পক্ষ জড়িত রয়েছে৷ শেখ হাসিনা বলেন, পোশাক শিল্পে ভাঙচুরের ঘটনায় মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শ্রমিকরা লাভবান হয় না৷ তৃতীয় পক্ষ লাভবান হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের দেশ৷ ইতোমধ্যে ঘটনার উস্কানিদাতাদের কিছু কিছু নাম সরকারের কাছে এসেছে এবং তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷ প্রধানমন্ত্রী উস্কানিদাতাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা দেশের ক্ষতি করবে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না৷ পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও মালিকদের এসব উস্কানিদাতার বিরুদ্ধে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে শ্রমিকরা যাতে মানবেতর জীবন-যাপন করতে না হয় সে ব্যাপারে তিনি মালিকদের সহানুভূতিশীল হতে বলেন৷ প্রধানমন্ত্রী পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে তাঁর বিগত সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই শিল্পের শ্রমিকদের ডরমেটরি নির্মাণের জন্য মাত্র ১ শতাংশ হারে সুদের বিনিময়ে এনজিওদের ঋণ দেয়া হয়েছিল৷ ব্র্যাককে ১০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল৷ ব্র্যাক এ শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ডরমেটরি তৈরি করেছিল৷ অন্য কোন এনজিও বা পোশাক শিল্পের মালিক ডরমেটরি নির্মাণে এগিয়ে এলে তিনি আশ্রয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে তাদেরকে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন৷ শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির উন্নয়নে শ্রমিক ও কৃষকের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারাই একটি দেশের উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি৷ কাজেই শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের ন্যায্য স্বার্থরক্ষা ও প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়নের চাকা সচল রাখা কখনই সম্ভব নয়৷ তিনি সন্ত্রাস, একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন৷
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র নস্যাতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্র ছাড়া কখনোই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, অতীতে যারা ভুয়া ভোটার বানিয়ে কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল তারা বসে নেই। তিনি দেশে গণতন্ত্র সুসংহত করার জন্য ১৪ দল উত্থাপিত প্রস্তাবের উল্লেখ করে বলেন, দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে এবং দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। ২০০৭ সালের এই দিনে তদানীন্তন শাসকগোষ্ঠীর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গণভবনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এলে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা সেদিনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সেদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, দেশে ফিরে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম না করলে শাসকগোষ্ঠী কোনদিনই নির্বাচন দেবে না এবং গণতন্ত্রও আর ফিরে আসবে না। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সেদিনের শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে দেশে ফেরার গৌরবদীপ্ত দিনটি স্মরণ করে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। এ উপলক্ষে সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ী গণভবনে সমবেত হতে থাকেন। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অসুস' পুত্রবধু ও সন্তান সম্ভবা মেয়েকে দেখার জন্য সে দেশে যান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরপরই শাসক গোষ্ঠী তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এমন কি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে তাঁকে বহন না করার জন্য চিঠি দিয়ে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানকে ঢাকায় অবতরণ করতে দেয়া হবে না। শেখ হাসিনাকেও তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা টেলিফোন করে দেশে না ফেরার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এমন কি এ সময় তাঁর জীবননাশেরও হুমকি প্রদান করে তাঁকে টেলিফোন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপাচার্যদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে কোন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন। সবক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটির ৩১ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উপাচার্যগণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার সার্বিক বিষয় নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনাকালে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এইসব ভর্তি বাণিজ্যের সাথে এক শ্রেণীর শিক্ষক জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি তার ছাত্র জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, সে সময় ছাত্র সংগঠনগুলো ভর্তি হতে আসা ছাত্রছাত্রীদের ফরম পূরণ করাসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করতেন। তিনি ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করার জন্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি জেলার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, আমরা প্রতিটি জেলার ছাত্রছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। তিনি ’৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তাঁর সরকারের আমলে উচ্চ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার জন্যে গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দলীয়করণ করে অযোগ্য লোককে নিয়োগ দেয়ার ফলে শিক্ষার মান ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়। তিনি উচ্চ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্যে উপাচার্যদের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের একার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব নয়। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেন, আমরা শিক্ষাঙ্গনে সকল প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বন্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিকস চালুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এরফলে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদান থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে অধিক হারে জনশক্তি আমদানির জন্য ইতালি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা অনেক বেশি পরিশ্রমী ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সফররত ইতালির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফানিকা আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিসহ বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এবং তাঁর সরকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেন না। তাঁর সরকার কখনোই সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। তবে তিনি বলেন, 'কোনো দেশের সরকারের একার পক্ষে সন্ত্রাস বন্ধ করা সম্ভব নয়, এজন্য যৌথ প্রয়াসের প্রয়োজন। আমরা শুধু বাংলাদেশেই নয়, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস নির্মূল করে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে চাই।' তিনি দারিদ্র্যকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করে বলেন, তাঁর বিগত সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সামাজিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদু্যৎ ঘাটতি ও পানির সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই সমস্যাগুলো সমাধানে তাঁর সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে পানি ও বিদু্যৎ সমস্যা মানুষের সহনীয় পর্যায়ে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁর সরকার সার, বীজ, জ্বালানিসহ কৃষি উপকরণের মূল্য হ্রাস করেছে। কৃষকরা যাতে সহজে ঋণ পেতে পারে তার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। সরকারের নেয়া এসব পদক্ষেপের ফলে এবারও দেশে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা কারা স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেছেন৷ কেন্দ্রীয় কারাগারের দেওয়ানী সেলকে বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে৷ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দীর্ঘ কারা জীবনে এই সেলেই আটক ছিলেন৷ জাদুঘর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন৷ উদ্বোধনকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়৷ শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন৷ বঙ্গবন্ধুর কারা জীবনের ওপর দ্বিতীয় আবাসন নামে একটি 'লাইট এন্ড শো' উপস্থাপন করা হয়৷ তিনি এই প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন৷ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতার ব্যবহার্য থালা-বাটি ও চেয়ার-টেবিল অত্যন্ত যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে৷ জাদুঘর প্রাঙ্গণে ছয়টি স্তম্ভে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফাকে চমত্কািরভাবে তুলে ধরা হয়েছে৷ জাদুঘর প্রাঙ্গণে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লাগানো একটি কামিনী ফুল গাছ ও একটি সফেদা গাছ৷ বঙ্গবন্ধুর স্নানাগার ও রান্না ঘরটিও সংরক্ষণ করা হয়েছে৷ এছাড়া বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের ওপর ভিত্তি করে একটি মুরালও এখানে তৈরি করা হয়েছে৷ বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর শেখ হাসিনা জাতীয় চার নেতা কারা স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন৷ এ সময় তিনি জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন৷ পরে জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়৷